ফিমেল – ৪০

ফিমেল

অর্ঘ্য ঘোষ

( ৪০)

সোহাগী মনে মনে ভাবে সব হারানো মানুষেরাই বোধহয় সামান্য কিছু পেলেই বাচ্চাদের মতো আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠতে পারে। তখন তাদের বাচ্চাদের মতোই গড়েপিঠে নেওয়া যায়। কিছুদিনের মধ্যেই সেই প্রমাণও পায় সোহাগী। তারাশংকর ভবনে থাকার জায়গা মিললেও দলের অফিস করার জন্য কেউ আলাদা কোন ঘর পায়নি। এর ফলে বায়না করতে আসা যাত্রাপার্টিরা চরম বিভ্রান্তি পড়ে। অস্বস্তিতে পড়ে সোহগীরাও। এতদিন যাত্রাপাড়ায় কোন পার্টি এলেই তাকে কি করে ভাংচি দিয়ে নিজের অফিসে ঢোকাবে তা নিয়ে আকচাআকচি লেগেই থাকত। কিন্তু ঘর ভাঙার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সবাই নিজের মতো হয়ে যাওয়ায় আগের মতো আচরণ করতে কেমন যেন বাধো বাধো লাগে সবার। এর ফলে কেউ কেউ একতরফা ভাবে বায়না পেতে শুরু করে। কারও আবার মাছি তাড়ানোর পরিস্থিতি হয়। সোহাগী দেখে এভাবে চললে অচিরেই তাদের নিজেদের মধ্যে একতাটা নষ্ট হয়ে যাবে। পার্টি কিম্বা প্রশাসন তার সুযোগ নিতে পারে। পরিস্থিতির সামাল দেওয়ার জন্য মনে মনে একটা উপায় ভাবে সে। একদিন বিকালে সবাইকে জড়ো করে বিষয়টি তুলে ধরে। সে বলে , আমার মনে হয় আমাদের এই পেশায় কেউ বড়োলোক হওয়ার আশা করে না। কোনরকমে চলে গেলেই হলো , কি বলো সবাই ?
সবার আগে ভজনকাকা বলে উঠেন , তা বইকি। কোনরকমে চলে গেলেই হোল। কিন্তু সেটাই বা চলছে কই ? একেই যাত্রা আর হচ্ছে না , তার উপরে এখানে আসার পর নিদ্দিষ্ট ঠাঁই ঠিকানা হারিয়ে যাওয়ায় যেটুকু বায়না হচ্ছিল তাও একতরফা হয়ে যাচ্ছে। এরপর তো পেটে গামছা বেধে পড়ে থাকতে হবে।
ভজন কাকার কথা শেষ হতেই সোহাগী বলে , সেটা যাতে না হয় তার জন্য আমি একটা উপায় ভেবেছি। আর সেটা বলব বলেই সবাইকে ডেকেছি।
— কি সেই উপায় ? আগ্রহ ঝড়ে পড়ে রত্না, বৃন্দাদের গলায়। সোহাগী সবিস্তারে ব্যাখ্যা করে তার পরিকল্পনা। সবার দিকে একপলক তাকিয়ে নিয়ে বলে , আছা বাসস্ট্যান্ড , হাসপাতাল কিম্বা রেলস্টেশনে সার সার ভাড়ার গাড়ি, অটোরিক্সা, ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মনে প্রশ্ন জাগে না সবার সবদিন ভাড়া জোটে তো ?
সবাই সমস্বরে বলে — জাগে তো।
— জাগাটাই স্বাভাবিক, আমারও জেগেছিল। কিন্তু নাতিকে হাসপাতাল থেকে আনার সময় ভুলটা ভাঙে।
—- কিসের ভুল ?
— আমি চকচকে দেখে একটা গাড়ি ভাড়া করতে গেলাম। কিন্তু ড্রাইভার পাশের গাড়ি দেখিয়ে দিল। তখন খুব রাগ হয়ে গেল। রেগে রেগেই কড়া গলায় তাকে বললাম , আপনি যাবেন না সেই বেশ। কার গাড়িতে যাব না যাব আপনি দেখিয়ে দেওয়ার কে? ড্রাইভারটি বলে , দিদি মিছেই আমার উপর রাগ করছেন। নিয়ম অনুযায়ী এই মুহুর্তে যেতে হলে আপনাকে ওই গাড়িতেই যেতে হবে।
—- কেন এরকম নিয়ম কেন? আমি জানতে চাই।
ডাইভারটি বলে, দিদি নিয়মটা আমরাই করেছি। সবার তো আর চকচকে গাড়ি নেই। কিন্তু পেট আছে , ঘর সংসার আছে। আপনার মতো সবাই চকচকে গাড়িই খোঁজে। ফলে প্রথমদিকে চকচকে গাড়িগুলিই একতরফা ভাড়া পেত। বাকিরা মাছি তাড়াত। তখন আমরাই ঠিক করি লাইন অনুযায়ী পরপর ভাড়া নেওয়া হবে। তারপর থেকেই দেখা যায় দিনের শেষে সবার গড়পড়তা পুষিয়ে যাচ্ছে।
ভজনকাকা বলেন , বাঃ ভালো নিয়ম তো।
রত্নারা প্রশ্ন তোলে , কিন্তু তাতে আমাদের কি এসে যায় ?
সোহাগী উত্তর দেয় , তা আসে বইকি। আমরা যদি একটাই অফিস করি এবং পালাক্রমে সবার জন্য বায়না নিই তাহলে কাউকে আর বসে থাকতে হবে না।
সোহাগীর কথাটা শোনার পরই পারস্পরিক আলোচনা শুরু হয়ে যায়। অধিকাংশেরই প্রস্তাবটা মনোঃপুত হয়। ভজনকাকাই কেবল বলে ওঠেন , আমরা ৩০ জনই তো মোটে লোক। একই সঙ্গে হেঁসেলের হাড়িটাও যদি এক করা যায় তাহলে আরও ভালো হবে। বহু খরচ বেঁচে যাবে। অন্তত যতদিন না নিজ নিজ বাড়ি হয় ততদিন যদি এভাবে একসঙ্গে থাকা যেত—!
ভজনকাকার কথা শেষ হতে দেয় না রত্নারা। সমস্বরে সবাই বলে উঠে , এর মতো ভালো আর হয় না।
শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি। ঠিক হয় যৌথ অপেরার নাম দেওয়া হবে ‘নতুন আলো’। সেইমতো রাতারাতি লেখা হয় নতুন পোষ্টার। তাতে ফিমেলের জায়গায় লেখা হয় পেশাদার অভিনেত্রীর জন্য যোগাযোগ করুন। এই প্রথম সোহাগীরা লাইট, মাইকের পদবাচ্য অবমাননাকর ফিমেলের তকমা ছেঁটে ফেলে নিজেদের অভিনেত্রী হিসাবে প্রতিষ্ঠার লড়াই শুরু করে দিল। কয়েকদিনের মধ্যে ফলও মিলল হাতে হাতে।আগে নিজেদের মধ্যে আকচাআকচি থাকায় সুযোগ নিত যাত্রাপার্টিরা। রেষারেষির জন্য যে যত কমে পারত বায়না ধরত। তার ফলে কিছুই থাকত না । কিন্তু এখন একটাই অফিস হওয়ায় সোহাগীরাই ভদ্রস্থ পারিশ্রমিক দাবি করতে পারে। একত্রে রান্নারও সুফল মেলে। সবদিকে খরচ তো সাশ্রয় হয়ই , অনেক সময়ও বেঁচে যায়। সেই সময়টুকু রিহের্সালে লাগানোয় শিল্পীদের উৎকর্ষতাও বাড়ে। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে ‘নতুন আলোর’ নাম। ততদিনে রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসনের কাছে পরিচিত নাম হয়ে উঠে সোহাগী। সেই পরিচিতি কাজে লাগিয়েই সোহাগী শিল্পীদের জন্য সরকারি ভাতা , অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ বীমার ব্যবস্থা করে ফেলে। সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয় এই উত্তরণের কথা। স্থানীয় বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনী নাট্য উৎসবে শিল্পী হিসাবে সংবর্ধিত করে সোহাগীদের। সেদিন কেউ আর চোখের জল ধরে রাখতে পারে না। কথাও হারিয়ে যায়। অনেক রাত পর্যন্ত ঘুমোয় না সোহাগরা। স্মারক উপহারগুলো পরম মমতায় হাত বুলাতে থাকে সবাই। হতশ্রদ্ধা ছাড়া কেউ তো কোনদিন তাদের সম্মান দেয় নি। সবার চোখে গড়িয়ে পড়ে আনন্দাশ্রু। কিন্তু মুহুর্তে সবার আনন্দাশ্রু কান্নায় পরিনত হয়।
কয়েকদিন ধরেই কথাটা বলব বলব ভাবছিল সোহাগী। আজ সবাইকে একসঙ্গে পেয়ে বলে ফেলে সেটা। কথাটা শোনার পর আর কেউ নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। এমন কি বাচ্চাদের মতো কেঁদে ওঠেন বয়স্ক মানুষ ভজনদাও। ফোঁপাতে ফোঁপাতে তারা বলেন , তুমি পারলে ওই কথা বলতে ? আমাদের কথা একবারও ভাবলে না ? এরপর কি হবে আমাদের ?
সান্তনা দিতে দিতে সোহাগী বলে , কি আবার হবে ? তোমরা সবাই খুব ভালো থাকবে দেখো। কথাটা কয়েকদিন ধরেই তোমাদের বলব বলব ভাবছিলাম। কিন্তু এই পরিস্থিতির কথা ভেবেই বলতে পারছিলাম না। কিন্তু একদিন তো বলতেই হোত। তাই আর দেরী করলাম না। দেখ আর আমার তোমাদের সঙ্গে থাকা ভালো দেখায় না। আমার বয়েস হয়েছে। সেরকম কাজও নেই। তোমাদের রোজগারে বসে বসে খাচ্ছি। কিন্তু আর আমি তা পারব না। আমি বাড়ি ফিরে যাব ঠিক করেছি।
—-তোমাকে আমারা কিছুতেই যেতে দেব না। কই যাও তো দেখি আমাদের ছেড়ে কেমন করে যেতে পারো ? রত্নাদের গলা থেকে ঝড়ে পড়ে একরাশ অভিমান।
সোহাগী তাদের গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে সান্তনা দেয়, যখন আমার মতো বয়েস হবে তখন বুঝবি — নিজের সম্মান নিজের কাছে।
বাচ্চা মেয়েদের মতো ঠোট উলটে ফের অভিমানী গলায় ওরা বলে , বুঝতেও চাই না যাও। আমরা তোমার পর বই তো নয়! আমাদের ছেড়ে যেতে তো তোমার কোন কষ্টই হবে না।
— কে বলল তোরা আমার পর ? আপনারজনদের তো পর করে দিয়ে তোদেরই তো আপন করে নিয়েছি রে। কিন্তু শিকড়ের একটা টান আছে জানিস তো। আমরা সবাই ছিন্নমুল হয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছি ঠিকই কিন্তু ছিন্নমুলেরও যে শিকড় হয়ে গজানো খুব ইচ্ছে থাকে। যাই গিয়ে দেখি সেই শিকড়ের সন্ধান পাই কিনা।
তারই মাঝে কেউ কেউ আবার অন্যেরকম গন্ধও পায়। দিন কয়েক বিধায়কের অফিসে যেতে দেখেছে সোহাগীকে। তাহলে কি তলায় তলায় বিধায়কের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজের আখের গুছিয়ে নিল সে ? তাদের কথা একবারও ভাবল না ? এরপর কি তাহলে প্রশাসন তাদের লাথি মেরে তাড়িয়ে দেবে ? উদ্বেগটা ধরে রাখতে পারে না কয়েকজন। তারাই সরাসরি সোহাগীকে প্রশ্নটা করেই ফেলে, এর মধ্যে অন্য কোন ব্যাপার নেই তো দিদি ?
—- অন্য কোন ব্যাপার মানে ? প্রশ্নটা শুনে বিস্মিত হয়ে পড়ে সোহাগী। এরা অন্য কোন ব্যাপারের কথা বলছে তা বোধগম্য হয় না তার। তাই জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে রত্নাদের মুখের দিকে চেয়ে থাকে সে।
এবারে রত্নারা আর লুকোছাপা করে না। খোলাখুলি বলে বসে , কয়েকদিন ধরে দেখছি তুমি তো বার কয়েক বিধায়কের অফিসে যাওয়া আসা করলে , তাই বলছি তার সঙ্গে কোন গোপন রফা-টফা করে আমাদের ফেলে চলে যাচ্ছ না তো ?
কথাগুলো শুনে যেন বোবা হয়ে যায় সোহাগী। ধাতস্থ হতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লেগে যায় তার। কিছুটা সামলে নিয়ে সে বলে , আমাকে তোরা এতদিনে এই চিনলি ? কেন আমি বার বার বিধায়কের কাছে গিয়েছি তা আজ আর আমি তোদের বলব না।পরে তোমরা জানতে পারবি।
সেদিন আর কেউ কোন কথা বলতে পারে না। রত্নাদের কথায় মনে বড়ো আঘাত পায় সোহাগী। সময়ে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঠিক কাজ করছে বলেই মনে হয় তার। এরপর হয়তো ভুল বোঝাবুঝির কারণে স্বার্থের সংঘাত তীব্র হয়ে উঠবে। তার আগে মান সম্মান নিয়ে সরে যাওয়াই ভালো।
কথাটা বলে রত্নারাও অনুশোচনা ভোগ করে। যে মেয়েটা তাদের মঙ্গলের জন্য ঘরসংসার ছেড়ে এসেছে সে কি স্বার্থের জন্য এমনটা করতে পারে ? তেমন হলে তো আন্দোলনের শুরুতেই ওর ছেলেকে তো পার্টির লোকেরা লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিল। সোহাগী তো তা হেলায় অগ্রাহ্য করেছিল। কথাটা বলে খুব অনুশোচনা হয় তাদের। কিন্তু করারও তো কিছু নেই। বলা কথা আর ছোড়া তীর তো আর ফেরানো যায় না। দুটি বিদ্ধ করে ছাড়ে। পরক্ষণেই সংশোধনের একটা উপায় খুঁজে পায় তারা। সেটাই খোলসা করে রত্না — আচ্ছা সোহাগীদি বলল না একদিন আমাদের ভুল ভাঙ্গবে।
বৃন্দা বলে, হ্যা বলল তো।
— তা যদি সত্যি হয় সেদিনই না হয় ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নেব।
— ঠিক বলেছিস। তাই হবে। দেখাই যাক ভুল ভাঙার দিনটা কবে আসে।
বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয় না , একদিন পরেই সবার ভুল ভেঙে যায়। জানা যায় আসল কথা। বিধায়কের পি, এ পিন্টু ভান্ডারী সাতসকালেই একটা কাগজ রত্নাদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে , এই নিন আপনারা কলকাতার মতো এখানেও যে যাত্রা উৎসবের দাবি জানিয়েছিলেন তা মঞ্জুর হয়েছে। আর আপনাদেরই দেওয়া হয়েছে উৎসব পরিচালনার দায়িত্ব। কথাগুলো শোনার পর মরমে মরে যায় রত্নারা। সোহাগী অবশ্য চুপ করে থেকে বিষয়টি উপভোগ করে। সে দেখতে পায় সবার চোখ মুখে অপরাধ বোধের ছাপ। কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারছে না। তাদের চোখে যেন বৃষ্টির আভাস। ভজনকাকা নিজেকে কোন রকমে সামলে নিয়ে বলেন , ওদের কথায় তুমি কিছু মনে কোর না। আমরা তো জানি তুমি আমাদের জন্য কত ভাবো। আমাদের ভাবনা তোমাকে নিয়ে। ছেলের কথা অমান্য করে আমাদের সঙ্গে চলে এসেছিলে, সেখানে যদি আর তোমার ঠাঁই না হয় ? ম্লান হাসি ফুটে উঠে সোহাগীর মুখে। কেমন যেন একটা অস্বস্তি ঘিরে ধরে তাকে। সেসব কাউকে বুঝতে দিতে চায় না সে। তাই বলে , সে কথাও ভেবে রেখেছি। ছেলের সংসারেও আমি বসে বসে খাব না। বাড়ির সামনে যে চালাটা আছে সেখানে চা — তেলেভাজার দোকান দেব। সামনেই বি , ডি, ও অফিস , রেজেষ্ট্রি অফিস পাড়া। বহু লোক আসে দুরদুরান্ত থেকে। দুদিনেই দোকান জমে যাবে। অন্তত নিজের পেটের ভাতটা ঠিক যোগাড় হয়ে যাবে।
—তাহলে আমাদের তাগ করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তোমার চূড়ান্ত ? কান্নাভেজা চোখে তার চেয়ে বলেরত্নারা। চোখ শুকনো থাকে না সোহাগীরও। কোন রকমে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে , ত্যাগ কি রে ? বাড়িতে গেলেও মনটা তোদের কাছেই পড়ে থাকবে। যখন ডাকবি ছুটে চলে আসব। তোরাও দোকানে যাবি। কম কিম্বা বিনা পয়সায় দিতে পারব না কিন্তু। বরং একটু বেশি বেশি করেই দাম দিবি তোরা। আমার পেটের ভাতটুকু তো যোগাড় করতে হবে বল ?
রসিকতাটুকু নিজের কাছেই কেমন করুণ মনে হয় সোহাগীর। হৃদয়ের অন্তস্থলে কত ব্যাথা জমা থাকলে তবেই নিজেকে নিয়ে মানুষ এমন রসিকতা করতে পারে তা রত্নাদেরও অজানা নয়। যেকোন সময় বাঁধ ভাঙা স্রোতের মতো তা প্লাবিত করে দিতে পারে সবাইকে। তাই কেউ আর কথা বাড়ায় না। সেদিন রাতে কারও ভালো করে ঘুম হয় না। রাত পোহালেই চলে যাবে সোহাগী। রত্নারা সঙ্গে যেতে চেয়েছিল। সোহাগী নিরস্ত করেছে। সকাল হতেই সবার কাছে বিদায় নিয়ে বগলে প্যুটলিটা নিয়ে তারাশংকর ভবন ছেড়ে এগিয়ে যায় সোহাগী। সঙ্গে সঙ্গে চলে তার পোষা কুকুরটি। তার সঙ্গে সেও এতদিন বাড়ি ছেড়ে তার কাছেই ছিল। পিছনে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে রত্নারা। একবারও পিছন ফিরে তাকাতে পারে না সোহাগ।

( ক্রমশ )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

Enjoy this blog? Please spread the word :)