ফিমেল – ৩৩

ফিমেল

অর্ঘ্য ঘোষ

( ৩৩)

বাপ-মা মরা মেয়েটা সোহাগীর কাছেই থাকে। মেয়েটার উপরে কেমন যেন মায়া পড়ে যায় । মেয়েটাকে দেখে মনের কোনে একটা সুপ্ত ইচ্ছেও উঁকি দেয় তার । যদি মেয়েটাকে বৌ করে ঘরে তোলা যেত ! যদি ওর একটা ঘর সংসার হোত ! ভাগাভাগি নয় , যদি একটা পুরোপুরি নিজের মানুষ হোত মেয়েটির ! নিজের একটা ঘর , একটা নিজের মানুষ সব মেয়েই চায়। ভাগ্যের পরিহাসে সমাজের মূলস্রোত থেকে ছিটকে গেলেও ফিমেলরাও তো মানুষ। তাদের মনেও ঘরসংসারের স্বপ্ন থাকে। সেই মনটা তো মরে যায় না। কোথাও এক রাতের জন্য রাণী সাজে , কোথাও বা ভরা সংসারের সুখী গৃহিণী। রাতের পর রাত ওইভাবে সাজতে সাজতে তাদের ঘর সংসারের আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়ে ওঠে। কিন্তু তাদের লাইনের মেয়েদের শুধু রঙ মেখে সঙ সাজাই সার হয় , সংসার হয় না। তাদের দীর্ঘনিশ্বাসের আড়ালে চাপা পড়ে যায় সব স্বপ্ন – সব আশা। কেউ তা টেরও পায় না। সমাজ তাদের বিনোদন আর ভোগের সামগ্রী করেই রাখে। বাপ-মা মরা মেয়েটাকে যদি দেওয়া যেত নিজের একটা সংসার , একটা মানুষ! কথাটা একদিন পেড়েই ফেলে ছেলের কাছে। একা পেয়ে বলে — হ্যারে সুখ সুবর্ণাকে তোর কেমন লাগে ?
ইংগিতটা বুঝতে পারে সুখময়। লজ্জা ঢাকতে তাই সে’ই পালটা প্রশ্ন ছুড়ে দেয় — কেন বলতো মা ?
জবাবে সোহাগী বলে , ভাবছি ওকে তোর বৌ করে ঘরে তুলব।
ছেলে বলে , সে তুমি যা ভালো বোঝ করো ।
ওই কথাতেই ছেলের মত জানা হয়ে যায় সোহাগীর। এবার সুবর্ণার মতটা জানা দরকার। তার কাছেও কথা পাড়ে। সুবর্ণাও কথাটা শুনে সুখময়ের মতোই বলে , মা তোমার পায়ে ঠাঁই দিয়েছো , তোমার পায়েই থাকতে চাই।
তার কথা শুনে বুঝতে আর কিছু বাকি থাকে না সোহাগীর। মনে মনে বলে, ওরে ছুড়ি রে। তলায় তলায় এতদুর ! জল তাহলে অনেক দুর গড়িয়েছে। আমি না বললে দুদিন পরে তো তোমরাই দেখছি বিয়ের কথা বলতে আমাকে। অদ্ভুত এক ভালো লাগায় ভরে যায় তার মন। নিজের না হোক , তারই মতো ভাগ্য বিড়ম্বিতা একটি মেয়েরও অন্তত নিজের সংসার , নিজের মানুষের নিশ্চয়তা দিতে পারল ভেবে নিজের অপ্রাপ্তিটা যেন অনেকটাই পূর্ণতা পায়। ওদের চারহাত এক করে দিতে আর দেরী করতে চায় না সোহাগী। তার দলের লোকেদের নিয়েই বিয়ের তোড়জোড় শুরু করে দেয় সে। সুবর্ণাকে নিয়েও বাজারে যাওয়া আসা করে। নিজের কিছু সোনা- রূপোর গয়না ছিল , সেগুলো ভেঙ্গে হবু বৌমায়ের পচ্ছন্দ মতো হাল ফ্যাসানের গয়না করতে দেওয়া হয়। গোটা যাত্রাপাড়াকে কবজি ডুবিয়ে খাওয়ানোর জন্য বলা হয় নামী ক্যাটারারকে। একটা ছেলের বিয়ে বলে কথা। কোন দিকেই কোন খু্ঁত রাখতে চাই না সোহাগী। কেবল একটা বিষয়েই তার খুঁতখু্ঁতানি যায় না। ছেলেমেয়ে দু’টোর চার হাত এক করে দেওয়ার মতো যদি মুরুব্বি গোছের নিজের কেউ থাকত ! বাপ- মা মরা মেয়েটার কথা না হয় বাদই গেল। দলের মেকআপ ম্যান ভজনকাকা ওকে মেয়ের মতোই দেখেন। তিনিই সম্প্রদান করবেন বলে ঠিক করে বসে আছেন। কিন্তু ছেলেটা ? তার প্রতি কোন দায়দায়িত্ব পালন না করুক , বাবা হিসাবে হাত ধরে এই দরজাটা যদি পার করে দিয়ে যেত লোকটা ! কতবার ভেবেছে , আর একবার লজ্জার মাথা খেয়ে কথাটা গিয়ে বলবে। শুনে মদনদা তাকে নিরস্ত করেছেন। বলেছেন , শুধু শুধু অপমানিত হতে যাবে ? ওর মধ্যে পিতৃত্ব বোধ আছে ? তোমার যদি আপত্তি না থাকে তাহলে আমিই বরকর্তা হয়ে বিয়ে দিতে পারি।
মদনদা দলে বাঁশী বাজান। সুখকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছেন। সেই কথা ভেবেই সোহাগী বলে , আপত্তি কি বলছ মদনদা ? সুখ তো তোমারই সন্তানতুল্য। ওর বিয়ে দেওয়ার অধিকার তো তোমারই।
নির্ধারিত দিনে বেজে ওঠে বিয়ের সানাই। উচ্চারিত হয়
বৈদিক মন্ত্র — যদিদং হৃদং — মন্ত্রোচ্চারণ শুনতে শুনতে কোথায় যেন হারিয়ে যায় সোহাগী। মঞ্চে কতবার যে ওই মন্ত্র উচ্চারণ করেছে তার ঠিক নেই। এ জীবনে আর সত্যিকারের মন্ত্রোচ্চারণ করা হল না। সমারোহে মিটে যায় বিয়ে। বিয়ের আয়োজন দেখে অন্যান্য জায়গায় যা হয় এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয় না। দু’বেলা কবজি ডুবিয়ে খেয়েও পাড়ার লোকেরা খুঁত খুঁজে বের করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু তেমন যুতসই খুঁত খুঁজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিতে হয় তাদের। বিয়ের মতোই পরবর্তী অনুষ্ঠানগুলিতেও কোন খুঁত রাখতে চায় না সোহাগী। হোক না ফিমেলের , কিন্তু একমাত্র ছেলে তো ! সবেধন নীলমনি , তার নাড়ী ছেঁড়া ধন। কেবল স্ত্রী আচারের সময় কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। ভোজে কবজি ডুবিয়ে খেয়ে গেলেও স্ত্রী আচারে হাত লাগাতে কেউ এগিয়ে আসে না। মানুষের এই এক হীনমন্যতা , সবাই লাথি ঝাঁটা খাচ্ছে ঠিক আছে , কিন্তু তারই মধ্যে কেউ যদি একটু মাথা তুলে দাঁড়ায় তাহলে বাকিরা হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরে। ফিমেল হলেও তারাও তো সেই মানুষই। প্রচলিত সেই ছকের বাইরে যাবে কি করে ? অগত্যা দলের যন্ত্রী , গায়ক, অভিনেত্রীদের পরিবারের মহিলাদের নিয়েই স্ত্রী আচার সারতে হয়। ভজনকাকা সুবর্ণাকে সম্প্রদান করেছিলেন তাই তিনিই দ্বিরাগমনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে চাপিয়ে নেন। সোহাগীদের বাড়ি থেকে ভজনকাকার বাড়ি এমন কিছু দুরে নয়। দিব্যি রিক্সায় যাতায়াত করা যায় । কিন্তু ছেলে বৌ’মায়ের জন্য চার চাকার গাড়ির ব্যবস্থা করে সোহাগী। দেখে পাড়ার রত্মা, সুলতা , মনিকা , বৃন্দারা নাক কোঁচকায়। সোহাগী সব দেখেও না দেখার ভান করে। দ্বিরাগমন থেকে ফেরার পর সুর্বণা সোহাগীকে কিছুটা চাপে ফেলে দেয়। হঠাৎ করে বলে বসে , ওমা তুমি তো সবই করলে। বিয়ের পর আমাদের কোথাও বেড়াতে পাঠাবে না ?
কথাটা শুনে দু:শ্চিন্তায় পড়ে যায় সোহাগী। বিয়ের ধুমধাম করতে গিয়ে হাত প্রায় ফাঁকা। যাত্রার বায়নাপত্র দু’একটা না হলে কি করে সব দিক সামাল দেবে তাই ভেবে পাচ্ছে না সে। তাই সুবর্ণার আবদার অপ্রস্তুতে ফেলে দেয় তাকে। কিন্তু সেই আবদার ফেরাতেও পারে না। একমাত্র ছেলের বৌ বলে কথা ! মায়ের আর্থিক টানাটানির কথা ভেবে সুখ নিজে হয়তো সরাসরি কিছু বলতে পারে নি , কিন্তু সেও হয়তো মনে মনে একই ইচ্ছা পোষণ করে রেখেছে। একমাত্র ছেলের সেই ইচ্ছাটা পূরণ করতেই যদি না পারবে তাহলে সে কেমন মা ? তাই আর দ্বিমত করে না। সুবর্ণাকে কাছে টেনে নিয়ে বলে , আরে আমি তো সে কথা ভেবেই রেখেছি । কোথায় যেতে চাস বল ?
— ওঃ মা তুমি না , কি বলব ?
চকাস করে শাশুড়ির দুই গালে চুমু খেয়ে নেয় সুবর্ণা। অদুরে দাঁড়িয়ে সুর্বণার কান্ড দেখে হাসতে থাকে সুখময়। ছেলে-বৌমায়ের খুশী খুশী মুখ দেখে মনটা ভরে যায় সোহাগীর। নিজে তো আর ওসবের মর্ম জানে না। অভিনয়ের সুবাদেই যা জেনেছে। কিছুক্ষণ টানাপোড়নের পর পুরী যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সোহাগী গোপনে বাক্স থেকে শেষ সম্বল হারটা বের করে নিয়ে হাটতলার মোহন স্যাকরার কাছে বাঁধা রেখে ছেলে-বৌমায়ের পুরী যাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা করে দেয়। এত বাড়াবাড়ি আর সহ্য করতে পারে না পাড়ার মেয়েরা। তারা হাওয়ায় মন্তব্য ছুড়ে দেয় ‘কালে কালে দেখব কত, ভিখিরিরও ঠাট রাজার মত’! কথাটা শুনে খুব কষ্ট হয় সোহাগীর। সে কখনও কোন বিষয়ে হিংসা করে না। বরং সব সময় পাশে থাকার চেষ্টা করে। এইতো সেদিন জ্বরে বেহুঁশ হয়ে পড়েছিল মণিকা। পয়সার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছিল না। শোনার পরই সোহাগী তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেয়। শুধু তাই নয় , সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দুবেলা তার বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিয়েছে। বায়নার অভাবে বৃন্দা চোখে অন্ধকার দেখছিল। নিজের বায়না সে তাকে ধরে দিয়েছে। কয়েকদিনেই সবাই কেমন ভুলে গিয়েছে। ওদেরই বা দোষ কি ? ওরা তো ভুলে যেতেই পারে। সে বিশ্বাস করে যাদের হাতে যথাসর্বস্ব তুলে দিয়েছিল তারাই যদি ভুলে যেতে পারে তাহলে মণিকাদের দোষ দিয়ে লাভ কি ?
নিজের বাড়ির লোকেরাও কি তাকে মনে রেখেছে ? বাড়িটা কি আদৌ নিজের আছে আর ? মা মারা যাওয়ার পর থেকেই তো তারা নিজের বাড়িতে পরবাসী হয়ে গিয়েছিল। নতুনমায়ের চক্রান্তে দুই বোন দুদিকে ছিটকে পড়ে। বাবার কথা ভেবেই খুব কষ্ট হয় তার। মানুষটা কেমন আছ কে জানে ? শেফালীপিসির বাড়ি থেকে তার পালিয়ে আসার ঝাল নতুনমা বাবার উপরে মেটাচ্ছে না তো ? বাবাকে তার কাছে নিয়ে এসে রাখতে খুব ইচ্ছা করে তার। কিন্তু মেয়ের উঙ্ছবৃত্তির জীবন দেখে বাবা বিড়ম্বনায় পড়বে বলে আনার চেষ্টা করে নি। কতবার ভেবেছে মাসে মাসে কিছু করে টাকা পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু নতুনমায়ের আগ্রাসী মনোভাবের কথা ভেবে সেই ইচ্ছাও দমন করতে হয়েছে তাকে। কারণ তার পাঠানো টাকা বাবার কোন কাজেই লাগবে না , নতুনমাই সব হাতিয়ে নেবে। মাঝখান থেকে তার ঠিকানা জেনে যাওয়ার পর আগের মতো তাকে নিংড়ে নিতে শুরু করবে। সুখ আর সুবর্ণারা পুরী চলে যাওয়া পর থেকেই খুব একাকী লাগে সোহাগীর। একাকী হলেই মনের মধ্য ঘুরে ফিরে আসে ফেলে আসা দিনের নানা স্মৃতি। মনে পড়ে সায়নের কথা। তার বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। নতুনমায়ের চক্রান্তের শিকার না হলে হয়তো তার জীবনটাই অন্যরকম হত। তবে শুধু সে আর দিদিই তো নয় , তাদের পাড়ার বেশির ভাগ ছেলেমেয়ের জীবনযন্ত্রণা একই রকম। তাদের দু’বোনের জীবনধারা নাহয় নতুনমায়ের চক্রান্তের জন্য অন্যখাতে বইয়ে গিয়েছে , কিন্তু বাকিদের তো তা নয়। তাদের জীবন অন্যখাতে বইয়ে দিয়েছে অভাব। যে বয়সে ছেলেমেয়েদের হেসে খেলে কাটানোর কথা সেই বয়সেই তাদের পাড়ার ছেলেমেয়েদের সোনালী শৈশবের মায়াঅঞ্জন মুছে হাতে তুলে নিতে হয় কেদে আর ঝুড়ি। একপাল গরু – ছাগল নিয়ে মাঠে মাঠে ঘাস কেটে বেড়াতে হয়। স্কুলের চৌকাঠও মাড়ানো হয় না তাদের। লেখাপড়া মানে তাদের পরিবারে শুধু সময় নষ্ট। সেই তো বাবুদের বাড়িতে ছেলেদের মাহিন্দারি আর মেয়েদের ঝিগিরি। একটু বড়ো হলেই মেয়েদের কলকাতা কিম্বা বিহারে বিয়ের নামে বিকিয়ে যাওয়া। একে একে সব যেন ছবির মতো ভেসে ওঠে। দিদির আগেই হারিয়ে গিয়েছিল কবিতা আর প্রসাদীদিদি। তাদের বাড়ির পাশেই ছিল কবিতা আর প্রসাদী দিদিদের বাড়ি। দুজনেই বেশ সুন্দরী। সেইজন্য তাদের বাড়ির আশেপাশেও বাবুদের বাড়ির ছেলেরা দিনরাত ঘুরঘুর করত। সেইজন্য বেজায় খাপ্পা হয়ে ওঠেন বাবুরা। একদিন বাড়ি চড়ে যা ইচ্ছে তাই বলে যান সুদেববাবু। কবিতাদিদি আর প্রসাদীদিদির বাবাকে ডেকে বলেন , হ্যারে রামা-শ্যামা তোদের কি আক্কেল বলতে কিছু নেই। বুড়ো ধাড়ি মেয়েগুলোকে বাড়িতে রেখেছিস এখনও। যেমন করে হোক বিদায় কর। এরপর কিছু একটা অঘটন ঘটে গেলে তোদের গুষ্টিসুদ্ধো গ্রাম ছাড়া করব। রামাকাকারা সেদিন মাথা নিচু করে পায়ের নখ দিয়ে মাটি আঁচড়ে ছিলেন। কিছু বলতে পারেন নি। কি’ই বা বলতে পারতেন ? মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য কোথাই তাদের ? সোহাগী সেদিন ভেবে পায় নি বাবুদের ছেলের জন্য কেন কবিতাদিদিদেরই বিদায় করতে হবে ? বাবুরা তাদের ছেলেগুলোকে এপাড়ায় আসা বন্ধ করে দিলেই তো পারে। কিন্তু সেসব কিছুই হয় না। কয়েকদিন পর আড়কাঠি ধরে কবিতাদিদিকে কলকাতা আর প্রসাদীদিদিকে বিয়ের নামে বিহারে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন রামাকাকারা। সেই থেকে হারিয়ে যায় কবিতাদিদিরা। তাই নতুনমা তাকে যখন কাটোয়ায় শেফালিদির কাছে পাঠায় তখন সে দিদি , কবিতাদিদের থেকে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করেছিল। আর যাই হোক মাঝে মধ্যে বাড়ি গিয়ে বাবা , ছোটবেলার খেলার সাথী , গ্রামের মানুষজনের সঙ্গে দেখা হবে বলে মনকে সান্ত্বনা দিয়েছিল। কিন্তু অচিরেই তার সেই ভাবনা ভুল প্রমাণিত হয়ে যায়। বাড়ির লোক যাদের বাইরে পাঠায় তাদের বোধহয় ভিতরে ঢোকার অধিকার হারিয়ে যায়। কতদিন আপনজনের দেখে নি সোহাগী। বাড়ি থেকে নিয়ে আসা সবার সঙ্গে তোলা ছবিটা চোখের সামনে মেলে ধরতেই মুখগুলো সব কেমন ঝাপছা হয়ে আসে। টপটপ করে কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে পড়ে ছবিতে। তাড়াতাড়ি কাপড়ের আঁচল দিয়ে মুছে নেয় সে। নাড়ি সঙ্গে যোগ বলতে তো ওই ছবিটাই সম্বল। তাই নাড়িছেঁড়া ধনের মতো বুকে ছবিটাকে আঁকড়ে ধরে থাকে সোহাগী।

( ক্রমশ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

Enjoy this blog? Please spread the word :)